Android Tips

কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা বজায় রাখবেন।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তাঃ বর্তমান সময় কম বেশি সবার কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল বা স্মার্টফোন রয়েছে যেটি আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী বটেও। আমাদের জীবন যাত্রার সাথে  মিশে আছে প্রযুক্তির এই বিশেষ অবদান অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল। এটি ছাড়া দৈনন্দিন কাজ কর্ম করা যেন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অ্যান্ড্রয়েড বা স্মার্টফোন ব্যবহার করে আমরা বিনোদন, গেম খেলা, ছোট খাটো অফিসের কাজ কর্ম, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনের সাথে যুক্ত থাকি।

এই রকম নানান কাজে আমরা আমাদের মোবাইলটি কে ব্যবহার করি এবং সেখানে নিজের ব্যক্তিগত অনেক ইনফরমেশন সংরক্ষিত করে রাখি যা অন্যের হাতে পড়লে ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। প্রযুক্তি যেমন আমাদেরকে একটি ভালো জীবন-যাত্রা উপহার দিয়ে চলছে ঠিক তেমনি বিপদের পরিমাণ ও বাড়ছে। যত প্রযুক্তি উন্নত হচ্ছে ততো আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা ও ঝুঁকি বেড়েই চলছে। তাই আজকের এই আর্টিকেলে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের কিছু নিরাপত্তা টিপস এন্ড ট্রিক শেয়ার করবো যে গুলো মেনে চলবে সাইবার হামলা থেকে নিজে ও আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলকে কিছুটা হলেও রক্ষা করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা বিষয় টিপস এন্ড ট্রিক

অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করার সময় নিচের বিষয় গুলো মাথায় রেখে ব্যবহার করবেন তাহলে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন নিরাপদ রাখাটা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে আপনার দিক থেকে। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল নিরাপদ রাখার উপায় গুলোঃ

১। সিস্টেম আপডেট রাখা

সব সময় চেষ্টা করবেন আপনার মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেমের কোন আপডেট আসলে সেটি ইনস্টল করা। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের আপডেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে এইখানে অপারেটিং সিস্টেমের কোন নতুন ফিচার নিয়ে আসে আর না হয়তো কোন সিকিউটিরিটি আপডেট অথবা কোন ত্রুটি থাকলে সেটি ফিক্স করে ফেলে। তাই আমাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন সিস্টেম সফটওয়্যার আপডেট রাখা এতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা হলেও নিশ্চিত থাকা যায়।

২। অ্যাপ আপডেট রাখা

ফোনের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট রাখার সাথে সাথে প্লে-স্টোর থেকে ইনস্টল করা অথবা অন্য কোথাও থেকে ইনস্টল করা অ্যাপ গুলো অবশ্যই আপডেট রাখবেন। অনেকেই ডাটা খরচ হওয়ার ভয়ে অ্যাপ গুল আপডেট রাখে না এটা একটি বদ-অভ্যাস বলা যেতে পারে। আপনার বর্তমান অ্যাপ ভার্সনে যদি কোন ধরনে বাগ বা ত্রুটি থাকে তা ব্যবহার করে হ্যাকার বা অন্যে কেউ বিভিন্ন ধরনের সাইবার হামলা চালাতে পারে। যখন এই ত্রুটি গুলো অ্যাপ নিমার্তা কোম্পানি জানতে পারে সাথে সাথে সেইগুলো ফিক্স করে অ্যাপ আপডেট করে ফেলে যার ফলে ঐ ত্রুটির কারণে যে ক্ষতি হতে পারতো সেটি অনেকটা রক্ষা করা যায়। তাই সব সময় চেষ্টা করবেন নিয়মিত অ্যাপ গুলো আপডেট রাখার এটির ফলে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকার সাথে সাথে অ্যাপের নতুন ফিচার গুলো উপভোগ করতে পারবেন।

৩। ফোনে লক ব্যবহার করা

অনেকেই আলসেমির কারণে অ্যান্ড্রয়েড ফোন গুলো লক করে রাখা না। যেটি অনেক বড় ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে অনেক কিছু থাকে নিজেদের ব্যক্তিগত ইনফরমেশন, ফটো, ভিডিও ইত্যাদি জিনিস। এখন কল্পনা আপনার ফোনটি যদি চুরি হয়ে যায় তাহলে সহজেই সে ব্যক্তি আপনার ঐ ব্যক্তিগত জিনিস গুলো দেখতে পারবেন এবং আপনার পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে বিভিন্ন ভাবে টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। এছাড়াও নিজের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি বজায় রাখার জন্য আপনার  উচিত ফোনে একটি সিকিউরিটি লক চালু রাখা।

৪। গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা

কাজের প্রয়োজনে আমরা বিভিন্ন ধরনের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ইনস্টল করে থাকি। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের জনপ্রিয় অ্যাপ স্টোর হলো গুগল প্লে-স্টোর যেটি একদম অফিশিয়াল অ্যান্ড্রয়েড স্টোর যেখানে অ্যাপ গুলোর নিরাপত্তা যাচাই করে তারপর পাবলিশ করা হয়ে থাকে। এক কথা গুগল প্লে-স্টোর থেকে ইনস্টল করা অ্যাপ ব্যবহার করা অনেকটা নিরাপদ। কিন্তু অনেকেই মাঝে মধ্যে থার্ড পার্টি জায়গা থেকে অ্যাপ ইনস্টল করে থাকে যেটি অনেক বিপদজনক হতে পারে।

কারণ এইসব ওয়েবসাইটে অ্যাপ ডাউনলোড করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের এডস থাকে যেইগুলোর মধ্যে ভাইরাস অ্যাপ অটোমেটিক ডাউনলোড হয়ে ইনস্টল হওয়ার ভয় থাকে। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা ত্রুটি হতে পারে সকল ধরনের অ্যাক্সেস অন্যের হাতে চলে যেতে পারে। তাই অফিশিয়াল প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করবেন এছাড়া অ্যাপ ইনস্টল করতে গেলে ভয়ংকর অবস্থায় পড়তে পারেন।

৫। অব্যবহৃত অ্যাপ আন-ইনস্টল করুন

আপনার ফোনে যদি এমন কোন অ্যাপ থাকে যেটি আপনি দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহার করছেন না তাহলে ভালো হয় অ্যাপটি আন-ইনস্টল করে দিলে। আপনার ডিভাইসে অ্যাপের পরিমাণ যত বেশি হবে ততো ধরনের পারমিশন বেশি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে। আর এই পারমিশন গুলো দেওয়া মানে ডিভাইস হ্যাকিং বা মনিটরিং এর জন্য সুবিধা তৈরি করে দেওয়া। এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ফোনের স্টোরেজ ও অন্যান্য রিসোর্স ব্যবহার করবে এতে ফোন স্লো হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এই জন্য চেষ্টা করবেন আপনার ফোনে যেসব অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ রয়েছে সেইগুলো আন-ইনস্টল করবেন।

৬। অযথা অ্যাপ পারমিশন

আমরা যেসব অ্যাপ ব্যবহার করি সেইসব অ্যাপ গুলোতে বিভিন্ন ধরনের  পারমিশন দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে কাজের উপর ভিত্তি করে। অ্যাপ পারমিশন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সতর্ক হতে হবে কারণ অ্যাপ গুলো আমাদের অজানতেই বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্সেস নিয়ে ডাটা নিয়ে থাকে এবং ঐ গুলো বিজনেসে ব্যবহার করে থাকে। অ্যাপের ফিচারের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পারমিশনের দরকার পড়ে থাকে। ধরুন আপনি একটি অ্যাপ ব্যবহার করছেন যেটির কাজ নোট লিখে রাখা এছাড়া আর কিছু নেয়। এখন এই অ্যাপ যদি আপনার কাছে থেকে কল হিস্টোরি অ্যাক্সেস পারমিশন চাই তার মানে ঘাপলা আছে এই অ্যাপে।

এই ধরনের অনেক অ্যাপ পাবেন যেগুলো প্রয়োজন ছাড়া আপনার কাছে থেকে নানান রকম পারমিশন নিচ্ছে তাই যখন কোন অ্যাপ ব্যবহার করবেন প্রয়োজন বুঝে পারমিশন দিবেন।

৭। অন্যের জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা

অন্য কোন ব্যক্তির জিমেইল আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে লগিন করে রাখবেন না। এতে করে আপনার মোবাইলের বিভিন্ন তথ্য ঐ জিমেইল অ্যাকাউন্টের সাথে Sync হতে পারে। এইভাবে আপনার ফোনের ডাটা অন্য কারো হাতে চলে যেতে পারে তাই অন্যের জিমেইল অ্যাকাউন্ট লগিন করা থেকে বিরত থাকুন।

৮। Find My Device

গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া ফোন সহজেই খুঁজে পাওয়া যায় গুগলের Find My Device দিয়ে। এটির মাধ্যমে আপনার ডিভাইসে কোথায় আছে সেই লোকেশন দেখতে পারবেন এবং এটির মাধ্যমে ফোনে থাকা ডাটা সব রিমুভ করে দিতে পারবেন। এই জন্য অবশ্যই সেটিংস থেকে Find My Device অপশনটি চালু রাখবেন।

৯। অপ্রয়োজনীয় কানেকশন গুল বন্ধ রাখুন

প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ডাটা কানেকশন ব্লুটুথ, ওয়াফাই ইত্যাদি অন রাখবেন না। এটি সব সময় অন রাখলে আপনার ফোনের চার্জ তো দ্রুত যাবেই সেই সাথে হ্যাংক হওয়ার একটা আশংকা থেকে যায়। তাই চেষ্টা করবেন যখন দরকার ছাড়া এইসব অন না রাখার।

১০। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা

অনেকের পাসওয়ার্ড মনে রাখতে পারেন না তাই ফোনে থাকে নোট অ্যাপে সেই লগিন ইনফরমেশন গুলো সেভ করে রাখে। কিন্তু এটি ভয়ানক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে ভুলেও যদি আপনার ফোন অন্যের হাতে পড়ে বা হ্যাক হয়ে যায় তারা আপনার অন্যান্য অ্যাকাউন্টের ইনফরমেশন পেয়ে যাবে এবং তারা যেকোন কিছু করতে পারে। তাই নোট অ্যাপে এই ডিটেইলস গুলো সেভ করে রাখার চেয়ে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন এতে পাসওয়ার্ড গুলো সুরক্ষিত থাকবে।

আশা করি, আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি বা রক্ষা করতে এই টিপস এন্ড ট্রিক গুলো কাজে আসবে।

ধন্যবাদ

আরো পড়ুনঃ

জিমেইল অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা টিপস এন্ড ট্রিক।

আপনার স্মার্টফোন গরম হলে করণীয়।

মোবাইল ফ্যাক্টরি রিসেট দেওয়ার আগে করণীয়।

ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ কম্পিউটার? কোনটি কিনবেন?

Techmaster BD

প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও টিপস এন্ড ট্রিক জানতে ও জানাতে পছন্দ করি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!