Website Maintenance - ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ

কিভাবে ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ করবেন?(Website Maintenance)

ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ(Website Maintenance): একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট করে হোস্টিং সার্ভারে আপলোড করে দিলে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।  একটি ওয়েবসাইটকে প্রতিনিয়ত আপডেট করার প্রয়োজন। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আপনার ওয়েবসাইট যে উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্যটা পূরণ করতে পারছে কিনা। আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিটর যে কারণে ভিজিট করছে সেই তথা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে কিনা সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভিজিটররা যেসব কনটেন্ট খুঁজচ্ছে সেই সব বিষয় আমাদের সাইটে আছে কিনা যদি না থাকে তাহলে সেই কনটেন্ট গুলো যুক্ত করতে হবে।

ওয়েবসাইট কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কিনা, ওয়েবসাইটে হ্যাক হচ্ছে কিনা ইত্যাদি বিষয় গুলো যাচাই বাছাই করতে হবে। এবং প্রয়োজনে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আজকের আলোচনার বিষয় বস্তুই হলো কিভাবে একটা ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। কিভাবে একটি ওয়েবসাইট সুন্দর ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেন এর ধাপ গুলো কি কি বা কিভাবে Website Maintenance করবেন সেই বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ কি? (What is website maintenance?)

একটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ভুল-ত্রুটি, সমস্যা, দূর্বলতা ইত্যাদি খুঁজে বের করে সেই সব সংশোধন ও সমস্যা সমাধান করা এবং নিয়মিতি আপডেট করাকে ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইটকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে তার মান নিয়ন্ত্রণ, প্রতিনিয়ত আপডেট করা, সাইটের সিকিউরিটি বৃদ্ধি করা, সাইট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজড কিনা ইত্যাদি বিষয় গুল পর্যবেক্ষণ করায় হলো ওয়েবসাইট রক্ষনাবেক্ষণ বা Website Maintenance বলে।

একটি ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত আপডেট রাখতে নিচের বিষয় গুলোর উপর বেশি জোর দিতে হবেঃ-

১। নতুন কনটেন্ট যুক্ত করাঃ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার পর কয়েকটি আর্টিকেল বা কনটেন্ট দিয়ে বসে থাকা যাবে না। ওয়েবসাইটকে মানসম্মত করতে হলে নিয়মিত নিত্য-নতুন পোস্ট করা উচিত। নিউজ ওয়েবসাইট হলে প্রত্যেক দিনের নিউজ আপডেট দেওয়া উচিত। এতে ভিজিটর বাড়বে এবং পরবর্তীতে সাইটে আসার একটি আগ্রহ তৈরি হবে।

২। কনটেন্ট আপডেটঃ প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে ওয়েবসাইটে যেসব কনটেন্ট রয়েছে সেইসব কনটেন্ট প্রতিনিয়ত আপডেট করা প্রয়োজন। যেমনঃ ব্লগ পোস্ট বা আর্টিকেল, ভিডিও, অ্যানিমেশন, ইমেজ ইত্যাদি। অনেক কনটেন্ট রয়েছে যেগুলো প্রত্যেক বছরের উপর ভিত্তি করে নতুন করে লিখতে বা ঐ একই কনটেন্ট আপডেট করে দিতে হয়। ধরুন, আপনি একটি ব্লগ পোস্ট লিখেছিন ২০২১ সালে সেটি হলো “২০২১ সালের বেস্ট ল্যাপটপ” এই আর্টিকেলটি কিন্তু ২০২২ সালে এসে আপডেট করা প্রয়োজন ২০২২ সালের তথ্য দিয়ে। এই রকম আপনার সাইটে যেসব কনটেন্ট রয়েছে সেইগুলো প্রতিনিয়ত আপডেট করা প্রয়োজন।

৩। পণ্য আপডেটঃ আপনার ওয়েবসাইট যদি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই বর্তমান বাজার অনুযায়ী পণ্যের তথ্য আপডেট করা প্রয়োজন। নতুন কোন প্রোডাক্ট আসলে সেই প্রোডাক্ট গুলো ওয়েবসাইটে সংযোজন করতে হবে। বাজার অনুযায়ী পণ্যের দাম আপোডেট করতে হবে। আবার যেসব পণ্য স্টক নেয় সেইসব পণ্যকে বাদ দিতে হবে আর না হয় স্টক আউট হয়ে গেছে এটা উল্লেখ করে দিতে হবে।

৪। ডোমেইন ও হোস্টিং মেয়াদঃ ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ করতে গেলে যে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন সেটি হলো ডোমেইন ও হোস্টিং এর মেয়াদ। আমরা ডোমেইন ও হোস্টিং সেবা সাধারণত এক বছরের জন্য ক্রয় করে থাকি আর তা প্রত্যেক বছর নতুন করে ক্রয় করতে হয়। যে তারিখে আমরা সেবাটি কিনেছি ঠিক এক বছর পর ঐ তারিখে হোস্টিং ও ডোমেইন মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে। যদি আপনার অজানতে মেয়াদ শেষ যায় তাহলে সাইট ডাউন হতে পারে বা অন্য কোন কেউ আপনার ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারে। তাই ওয়েবসাইটের হোস্টিং ও ডোমেইনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগে রিনিউ করে নিবেন।

৫। ওয়েবসাইট ব্যাকআপঃ অনেক সময় সার্ভার ক্রাশ করা, হ্যাক হওয়া, ভাইরাস ঢুকে পড়ায় ওয়েবসাইট ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। এই ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যাকআপ নেওয়া প্রয়োজন। ওয়েবসাইট ব্যাকআপ নেওয়ার এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে কোন সময় সার্ভার জনিত বা হ্যাকিং জনিত ক্ষতি হলে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট যেন সুরক্ষিত থাকে। ব্যাকআপ থাকলে সাইট রিকভার করার পর সহজেই রিস্টোর করে আগের মতো অবস্থায় ওয়েবসাইটকে নিয়ে আসতে পারেন।

৬। নতুন ফিচারঃ ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের আরো ভালো অভিজ্ঞতা দিতে সাইটে বিভিন্ন নতুন নতুন ফিচার এড করতে পারেন। যেগুলো ভিজিটর কে আপনার ওয়েবসাইটে আসার জন্য আগ্রহী করে তুলবে।

৭। ওয়েবসাইট স্পিড টেস্টঃ একটি ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিডের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে থাকে তাই ওয়েবসাইট স্পিড টেস্ট করে দেখা জরুরি। ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড ধীর গতির হলে ভিজিটর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে চাইবে না কেটে দিয়ে অন্য ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে। এছাড়াও  ওয়েবসাইট ধীর গতি হলে সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংকিং এ প্রভাব ফেলে। ওয়েবসাইটের ভিজিটর ও র‍্যাংক ধরে রাখতে অবশ্যই ওয়েবসাইটের স্পিড অপটিমাইজ করুন।

৮। লিংক পর্যবেক্ষণঃ অনেক সময় ওয়েবসাইটের অনাকাঙ্ক্ষিত পেজ থাকে বা ভুল বস্ত তৈরি হয়ে যায় সেই লিংক গুলো ফিক্স করতে হবে। দেখা যাচ্ছে কোন ত্রুটি কারণে আপনার ওয়েবসাইটের কোন পেজের লিংক কাজ করছে না বা ঐ লিংক ওয়েবসাইটে নেয় সেই গুলো ঠিক করতে হবে। ওয়েবসাইটের এইসব লিংক গুলো কে Broken Link বলা হয়ে থাকে এটি সাইটের খারপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যেসব পেজ Broken সেই গুলোকে রিডাইরেক্ট করে নতুন আপডেট লিংকের সাথে সংযুক্ত করে দিতে হবে।

৯। ওয়েবসাইট সটওয়্যার আপডেটঃ আপনার ওয়েবসাইটটি যে টেকনোলজি দ্বারা তৈরি অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটের সফটওয়্যার প্রতিনিয়ত আপডেট রাখুন। যেমন আপনার ওয়েবসাইটটি যদি ওয়ার্ডপ্রেসে হয়ে থাকে তাহলে ঐ সাইটের থীম ও প্লাগিনের আপডেট আসলে সেইগুলো আপডেট দিয়ে রাখুন। এতে করে আগের ভার্সনে কোন সমস্যা থাকলে তো সেইগুলো সমাধান হয় সেই সাথে নতুন কোন ফিচার আসলে সেই গুলোও পাওয়ার যায়।

১০। এসইওঃ আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট গুলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজড কিনা এই বিষয় গুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ভিজিটর বা কাস্টমার বাড়াতে হলে বেশ ভালোভাবে ওয়েবসাইটের SEO করানো প্রয়োজন।  আপনি যদি এসইও এক্সপার্ট না হয়ে থাকেন তাহলে কোন এক্সপার্ট দ্বারা সাইটের এসইও এর কাজ করিয়ে নিন। অন পেজ ও অফ পেজ এসইও সঠিকভাবে করা যাতে ওয়েবসাইটে ট্রাফিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পাই।

১১। ওয়েবসাইট মার্কেটিংঃ ওয়েবসাইট তৈরি করলেই হবে না আপনার ওয়েবসাইট কি ধরনের সেবা প্রদান করে সেই সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে। এই জন্য সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং, এসইও, পেইড মার্কেটিং ইত্যাদি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

১২। ট্রাফিক পরিসংখ্যানঃ ওয়েবসাইটের কি পরিমাণ ভিজিটর আসছে, কোন টপিক পাঠক পড়তে পছন্দ করতেছে, কোন বিষয়ের জন্য আসছে কিন্তু পাচ্ছে না সেই বিষয় গুলোর পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

আশা করি, এই আর্টিকেল থেকে ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ (Website Maintenance) সম্পর্কে কিছু হলেও ধারণ অর্জন করতে পেরেছেন। আপনার ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণ করতে উপরোক্ত বিষয় গুলোর দিকে বেশি নজর দিয়ে কাজ করে যান।

ধনবাদ

আরো পড়ুনঃ

একটি ব্লগ সাইট তৈরি করার নিয়ম ও ধাপ সমূহ।

ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ কম্পিউটার? কোনটি কিনবেন?

Rank Math এসইও প্লাগিন ইনস্টল ও সেটআপ পদ্ধতি।

কিভাবে গুগল সার্চ কনসোল এ আপনার ওয়েবসাইট সাবমিট করবেন।

প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও টিপস এন্ড ট্রিক জানতে ও জানাতে পছন্দ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!