নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী জন্য ৫ টিপস।

নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী

আসসালামু আলাইকু, আপনি একজন নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী? নতুন কম্পিউটার কিনেছেন? তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আজকের এই আর্টিকেল নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য এমন কিছু টিপস এন্ড ট্রিক শেয়ার করব যা প্রতিনিয়ত আপনার কাজে আসবে।

নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য ৫টি টিপস

বর্তমান সময়ে কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণ করা একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে উঠেছে কারণ এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ। আগে যেসব কাজ কাগজে কলমে করা হতো সেই বিষয় গুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত, নিজের পড়া ইত্যাদি। কম্পিউটার শিক্ষা থাকলে চাকরি বা নিজের পড়ালেখা হোক সব কাজেই এগিয়ে থাকা যায়। যারা শখের বসে বা নিজের কোন প্রয়োজনে কম্পিউটার কিনেছেন এবং কখনো কম্পিউটার ব্যবহার করেন নি করলেও সেই ভাবে জ্ঞান রাখেন না তাদের উদ্দেশ্য করে আজকের এই আর্টিকেল।

এই আর্টিকেলে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে আপনাদের সাথে এমন ৫টি টিপস দিবো যেগুলো একজন নতুন কম্পিউটার ইউজার হিসাবে আপনার কাজে আসবে। নতুন কম্পিউটার কেনার পর কি করণীয় বা কি কি করলে আপনার সুবিধা হতে পারে সেই সম্পর্কে কিছু টিপস এন্ড ট্রিক নিচে ছোট করে উল্লেখ্য করা হলো।

১। কম্পিউটার সাধারণ শিক্ষা

আপনি একটি যন্ত্র ব্যবহার করছেন আর সেটি সম্পর্কে আপনার টুকিটাকি হলেও জ্ঞান রাখা আবশ্যক। তাছাড়া সেই যন্ত্রটি ব্যবহার করতে গিয়ে সাধারণ সমস্যা নিয়েও মেকানিকের কাছে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। কম্পিউটার যেহেতু কিনেছেন সেহেতু অনেকে কম্পিউটার সম্পর্কে হালকা পাতলা জ্ঞান রাখতে পারে তবুও আর কিছু জানতে হবে। এখন কথা হচ্ছে কম্পিউটার সম্পর্কে কি জানবেন বা শিখবেন তাই তো? যদি সম্ভব হয় কম্পিউটার কেনার আগে কম্পিউটারের যন্ত্রপাতি সম্পর্কে একটু ধারণা নেওয়া।

কম্পিউটার সাধারণ শিক্ষার কথা বলতে গেলে আমার দিক থেকে প্রথমেই চলে আসে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পরিচিত। ডেস্ক কম্পিউটার হোক আর ল্যাপটপ কম্পিউটার প্রত্যেকের ভেতর একই হার্ডওয়্যার থাকে প্রসেসর, র‍্যাম, স্টোরেজ ডিভাইস, ইনপুট ডিভাইস ইত্যাদি। আপনি যে কম্পিউটার কিনেন না কেন তারপর চেষ্টা করবেন এই হার্ডওয়্যার গুলোর সাথে পরিচিত হওয়া কোনটার কাজ কি সেটা জানা। এই জন্য আপনাকে কষ্ট করে টাকা খরচ করে কোচিং করার দরকার নেই। শুধু ইউটিউবে গিয়ে সার্চ দিন “Computer hardware basics tutorial” তাহলে শত শত ভিডিও পাবেন চাইলে বাংলাতে সার্চ করলেও পেয়ে যাবেন।

এটি জানা প্রয়োজন যাথে কখনো যদি আপনার কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের সম্পর্কিত কোন সমস্যা হয় তাহলে কিছু না হলেও ধরতে পারেন যে কি হয়েছে আপনার কম্পিউটারের। হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত জাহাজ পরিমাণ জ্ঞান রাখার দরকার নেয় বেসিক কয়েকটি জিনিস দেখলেই চলবে। আরো যদি ভালো করে কম্পিউটারকে জানতে বুঝতে চান তাহলে কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে এই নিয়ে গুগল ও ইউটিউবে সার্চ করে দেখতে পারেন।

এরপর আশা কম্পিউটারটা ব্যবহার করার শেখা। আপনি যদি একটু চালাক চতুর মানুষ হয়ে থাকেন স্মার্ট মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে কম্পিউটারের ব্যবহার করতে পারা টা অনেক সহজ হয়ে যাবে। স্ক্রিনে সব প্রায় লেখার থাকে কি দিয়ে কি করতে হবে বর্তমান সময়ের ছেলে পেলেরা অন্যের কম্পিউটার ব্যবহার করা দেখে অন্তত্য মাউসটা ব্যবহার করা জানে। যদি আপনিও জানেন তাহলে সহজ হয়ে গেলে কম্পিউটার চালানো।

কম্পিউটার চালানো আহামরি কঠিন কোন বিষয় না একটা স্মার্টফোন চালানোর মতোই। তাই কম্পিউটার নেওয়ার পর শুধু মাউস ধরা শিখে গান প্লে করা গেম খেলা ইত্যাদি জিনিস না করে। একটি কম্পিউটার কিভবে সফটওয়্যার ইনস্টল বা আনইনস্টল করতে হয়, ফোল্ডার বানাতে হয়, ডকুমেন্ট বানাতে হয় ইত্যাদি বিষয় গুলো শিখবেন। হয়তো অনেকের এই গুলো বলতে শুনে অনেকেই হাসতে পারে কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার দেখা অনেকেই কম্পিউটার কিনেছে আজ ১-২ বছর বা বছরের পর বছর হয়ে গেল তাও কম্পিউটারটা সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এই গুলো একদম বেসিক জিনিস আপনি যদি এইগুলো শিখতে জান করতে জান এবং নিজের চোখ কান খোলা রাখেন তাহলে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন।

২। টাইপিং শিখুন

কম্পিউটার ব্যবহার করেন কিন্তু টাইপিং শিখেন নি বা শিখবেন না এর চেয়ে দুঃখের কথা হয় না। কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারা মানে আপনাকে টাইপিং অবশ্যই জানতে হবে। আপনি কম্পিউটারে যেকোন কিছু করতে জান আপনাকে টাইপিং অবশ্যই জানত হবে। টাইপিং করা মানে এই না যে আপনি এক আঙ্গুল দিয়ে কীবোর্ড দেখে দেখে টাইপ করবেন। আপনাকে টাচ টাইপিং শিখতে হবে মানে কীবোর্ড না দেখে হাতের ১০টা আঙ্গুল ব্যবহার করে টাইপ করতে পারা জানতে হবে।

কিভাবে টাইপিং শিখবেন? টাইপিং শিখার জন্য অনেক মাধ্যম রয়েছে গুগলে সার্চ করলে পেয়ে যাবেন। টাইপিং শেখার জনপ্রিয় সফটওয়্যার হলো Typing Master Pro যা দ্বারা আপনি সহজে টাইপিং শিখতে পারবেন। কিন্তু একটা অসুবিধা হলো টাইপিং মাস্টার সফটওয়্যারটি পেইড সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করতে হবে তথবা অন্য কোথাও থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও ফ্রিতে টাইপিং শিখার জন্য Typing.com এই ওয়েবসাইট থেকে শিখতে পারেন। লিংকে প্রবেশ করার করার পর একটি স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট তৈরী করে লগিন করে টাইপিং শিখা শুরু করুন।

একজন নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারী হিসেবে আপনার উচিত টাইপিং শিখার দিকে নজর দেওয়া। টাইপিং জানা থাকলে আপনি দ্রুত কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজ সহজে করে ফেলতে পারেবন।

৩। কম্পিউটার ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়

কম্পিউটারের বড় শত্রু হলো কম্পিউটার ভাইরাস। কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার যা আপনার কম্পিউটার সিস্টেমের ক্ষতি সাধন করে থাকে। এইসব ভাইরাস বিভিন্ন মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রবেশ করে থাকে যেমন ভাইরাস যুক্ত পেনড্রাইভ কম্পিউটারে ঢুকালে, অনলাইন থেকে ভাইরাস যুক্ত ফাইল ডাউনলোড করলে ইত্যাদি। এইসব থেকে বাঁচার উপায় হলো নিজে সতর্ক হওয়া কম্পিউটার ব্যবহারে।

নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা সাধারণত যে ভুল করে থাকে তাহলে হলো ইন্টারনেট থেকে কোন গেমস বা সফটওয়্যার ফ্রিতে ডাউনলোড করতে গিয়ে কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করায়। কম্পিউটারে ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার জন্য সব সময় এমন রিসোর্স থেকে ফাইল বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে যেগুলো সবার পরিচিত ভালো। এই ওয়েবসাইট গুলো অনলাইনে সার্চ করলে পেয়ে যাবেন যেমন “best computer software downloading site for free” বা আপনি যেভাবে ইচ্ছা সার্চ করে বের করে নিতে পারেন।

সব সময় চেষ্টা করবেন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করার। আপনি উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আলাদা করে কোন অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করার তেমন প্রয়োজন নেয়। একটু সতর্কতার সাথে যদি কম্পিউটার ব্যবহার করেন তাহলে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার চ্যান্স খুবই কম।

৪। সব কিছু গুছিয়ে রাখুন

কম্পিউটারে আমরা বিভিন্ন সফটওয়্যার, গেমস, ছবি, অডিও, ভিডিও স্টোর করে রাখার প্রয়োজন পড়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে দেখা যায় কি অনেকেই অগুছানো ভাবে সব ফাইল গুলো রেখে দেয় যার ফলে পরবর্তী সময়ে খুঁজতে গেলে অসুবিধা হয় খুঁজে পেতে দেরি হয়। কম্পিউটারের স্টোরেজ ডিভাইস যেটা হার্ড ডিস্ক বা এসএসডি হতে পারে সেইটার মাঝে পার্টিশন করা যায় সেটা কম্পিউটার নেওয়ার অনেক দোকানদারই করে দেয়।

পার্টিশন জিনিস টা আমাদের ঘরে বা বাড়ির মধ্যে ভাগ করার জন্য বা আলাদা করার জন্য যে বলি থাকি পার্টিশন দেওয়া আছে বা দিচ্ছি। সেই একই জিনিসটা এখানে আপনার স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্য আপনি আলাদা আলাদা ভাগ করে নিচ্ছেন ১ টেরাবাইট কে আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করলেন। এখন করবেনটা কি প্রত্যেকটার একটা নাম দিবেন যেমন একটাতে শুধু সফটওয়্যার রাখবেন সেজন্য নাম দিতে পারেন Software এভাবে প্রয়োজন অনুসারে নাম দিয়ে সেই ড্রাইভ গুলোর মধ্যে জিনিস গুলো রাখবেন। এতে যখন আপনার আবার দরকার পড়বে সহজেই খুঁজে পাবেন।

কম্পিউটারে থেকে কোন কিছু ডাউলোড দিলে সেটা ডাউনলোড ফোল্ডারে থাকে। যখন যে জিনিস ডাউনলোড দিবেন, সেটি ডাউনলোড শেষ হয়ে গেলে Cut করে অন্য ড্রাইভে নিয়ে রাখবেন। কারণ Downloads ফোল্ডার সি ড্রাইভের অন্তর্গত যদি কখনো উইন্ডোজ ক্রাশ করে তাহলে ঐ ফাইল গুলো মিস হওয়ার চ্যান্স থাকে।

৫। প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার

কম্পিউটারে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো একটি আদর্শ কম্পিউটারে থাকা উচিত। সফটওয়্যার গুলোর মধ্য অন্যতম MS Office, Winrar, Video Player(VLC, KM Player, Pot Player etc), Photoshop, IDM ইত্যাদি এটি কিছুটা নির্ভর করে আপনার দরকারের উপর। তো আপনার প্রয়োজন অনুসারে যেসব সফটওয়্যার দরকার পড়বে সেই গুলো ইনস্টল দিয়ে রাখবেন।

আর আপনার যে সব সফটওয়্যার দরকার পড়ে না অযথায় ইনস্টল দিয়ে রাখবেন। অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার গুলো আনইনস্টল করে দিন এবং যেগুলো কাজে লাগে শুধু সেই গুলো রেখে দিন।

আশা করি, একজন নতুন কম্পিউটার ব্যবহাকারী হিসেবে এই আমার নিজের জ্ঞান থেকে দেওয়া ৫টি টিপস গুলো আপনার অনেক কাজে আসবে।

আরো পড়ুনঃ

উইন্ডোজের সিস্টেম সফটওয়্যার ও সেটিংস পরিচিত।

জনপ্রিয় ৫টি পেইড সফটওয়্যারের ফ্রি অল্টারনেটিভস সফটওয়্যার।

কম্পিউটার স্লো হওয়ার কারণ | স্লো হলে করণীয়।

You May Also Like

About the Author: Techmaster BD

প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও টিপস এন্ড ট্রিক জানতে ও জানাতে পছন্দ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!