ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় নিরাপদ থাকার উপায়।

ফ্রি ওয়াইফাই

ফ্রি ওয়াইফাইঃ বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির যুগ আর এই যুগে ইন্টারনেট আমাদের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হয়ে উঠেছে। ইন্টারনেট মানুষ বিভিন্ন কাজ ও বিনোদনের জন্য ব্যবহার করে থাকে আর এই নেট দুনিয়ার সাথে যুক্ত হতে ওয়াইফাই বা মোবাইল ডাটা ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে ইন্টারনেট প্যাকেজ গুলোর যে দাম তাই হিসাব করে চিন্তা ভাবনা করে মেগাবাইট খরচ করতে হয়।

এই অবস্থায় অনেকে ইন্টারনেট খরচ বাঁচাতে অনেকে বাসায় ব্রড ব্যান্ড কানেকশন বা ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকে। ব্রড ব্যান্ড বা ওয়াইফাই কানেকশন সহজলভ্য হওয়াতে অনেকে এটি ব্যবহার শুরু করছে বাসায় অফিসে। সেই সুবাদে বিভিন্ন পাবলিক প্লেস যেমন রেস্টুরেন্ট, রেলস্টেশন, শপিং মল ইত্যাদি জায়গাতে কাস্টমারদের বাড়াতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা দান করা হয়ে থাকে। এই ধরনে ফ্রি ওয়াইফাই জোন গুলোতে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য কোন পাসওয়ার্ড প্রয়োজন পড়ে না ডাইরেক্ট কানেক্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন।

কিন্তু আপনি কি জানেন আমরা এই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে গিয়ে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনতে পারি। ফ্রি ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক গুলো ব্যবহার করা ক্ষতিকর হতে পারে কারণ এইসব Free WIFI হটস্পট এলাকাতে অসাধু ব্যক্তিরা বসে থাকে আপনার তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। তাই বলে কি প্রয়োজনে বাইরে Free Wifi ব্যবহার করতে পারবেন না? অবশ্যই পারবেন কিন্তু এই ক্ষেত্রে কিছু সাবধনা অবলম্বন করা উচিত।

ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় নিরাপদ থাকার উপায়

Free Wifi ব্যবহার করার সময় আমাদের যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত ও যেভাবে ব্যবহার করা উচিত সেই সম্পর্কে সংক্ষেপে টিপস এন্ড ট্রিক নিচে দেওয়া হলোঃ

রেজিস্টার ওয়াইফাই জোন

কিছু পাবলিক ফ্রি ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক গুলোতে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রথমে মোবাইল নাম্বার দিয়ে আগে রেজিস্টার করা লাগে। তারপর ঐ মোবাইল নাম্বারে একটা ওয়ান টাইপ পাসওয়ার্ড মানে OTP দেয় যেটা দিয়ে আপনি ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এই ধরনের নেটওয়ার্ক গুলো অন্য গুলোর তুলনায় নিরাপদ হয়ে থাকে তাই এই ধরনের পাবলিক ওয়াইফাই জোন ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।

অনেক সময় পাবলিক প্লেসে হ্যাকারা একটি ফেক নেটওয়ার্ক তৈরী করে রেখে দেয় যাতে সাধারণ মানুষ জন নেটওয়ার্কে কানেক্ট হয় আর তার ফাঁদে পা দেয়। এই জন্য যখন কোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হবেন দেখে নিবেন সেটা ঐ জায়গার আসল ওয়াইফাই কিনা। সেটা আশে পাশের মানুষ গুলো কোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে সেটি যাচাই করে নিতে পারেন।

নেটওয়ার্কের নাম পর্যবেক্ষণ করা

যেসব পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন সেই গুলো কানেক্ট করার সময় automatically কানেক্ট করার জন্য যে চেক্স বক্স থাকে সেটা তে ক্লিক করলে পরের বার যখন ওয়াইফাই জোনে যাবেন অটোমেটিকালি কানেক্ট হয়ে যায়। কিন্তু এটা ভয়াবহ হতে পারে পাবলিক ওয়াইফাই ক্ষেত্রে দেখা গেল আপনার অজান্তেই ওয়াইফাই কানেক্ট হয়ে থাকলো আর অসাধু ব্যক্তি সেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপনার গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

অনলাইন লেন-দেন না করা

কখনো পাবলিক ওয়াইফাই দিয়ে অনলাইনে ক্রেটিড কার্ড, ডেবিট কার্ড ব্যাংক অথবা যেকোন অনলাইম পেমেন্ট সিস্টেম দ্বারা কোন প্রকার জিনিস ক্রয় বিক্রয় লেন-দেন করবেন না। কারণ এই ফ্রি ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ধরনের ফিশিং কার্যকলাপ ঘটতে পারে বা ঘটে থাকে। আপনার এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস গুলো অন্য ব্যক্তির হাতে চলে যেতে পারে। তাই রেস্টুরেন্ট, রেলস্টেশন, পার্ক ইত্যাদি জায়গার Free WIFI ব্যবহার করে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকুন।

ভিপিএন ব্যবহার করুন

ভিপিএন হচ্ছে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে আমরা আমাদের অনলাইন ব্রাউজিং ডাটা গুলো এনক্রিপ্ট করে এবং আসল আইপি কে লুকিয়ে রাখে। ফলে আমাদের ব্যক্তিগত ডাটা কোন ব্যক্তির হাতে চলে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যারা ভিপিএন কি কেন ব্যবহার করা হয় জানেন না নিচের আর্টিকেল টি পড়ে আসতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ ভিপিএন কি? ভিপিএন ব্যবহারের সুবিধা।

অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা

আপনি যদি ল্যাপটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে কোন পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই সেই ল্যাপটপ অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার রাখবেন। যদি আপনার ল্যাপটপে উইন্ডোজ ১০ থেকে থাকে তাহলে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার যথেষ্ট আছে যদি আপনি একটু চালাক হয়ে থাকেন। আর যদি আপনি সাবধান না থাকেন তাহলে যতই পেইড অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করেন না কেন ভাইরাস বা ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। পাবলিক ওয়াইফাই গুলোতে হ্যাকার বা অসাধু ব্যক্তিরা বিভিন্ন ফাঁদ বা ভাইরাস ঢুকানোর মাধ্যোমে আপনার সিস্টেমের অ্যাক্সেস নিয়ে নিতে পারে তাই একটি অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম থাকা ভালো।

অতিরিক্ত একটি টিপস

অপ্রয়োজনে ওয়াইফাই অন করে রাখবেন না এতে কোন কানেক্টেড ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আন্ডারে গেলে আপনার মোবাইল টি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে এবং তখন বিভিন্ন নোটিফিকেশন আসা শুরু করে ফোনকে দেওলিয়া করে দিতে পারে। এছাড়াও চার্জ যেতে থাকবে আবার একটা নিরাপত্তার ব্যাপার আছে।

আরো পড়ুনঃ

মোবাইল স্লো সমস্যার সমাধান নিয়ে নিন।

পুরাতন মোবাইল কেনার আগে করণীয়।

১ মেগাবাইটের সেরা ৫টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।

You May Also Like

About the Author: Techmaster BD

প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও টিপস এন্ড ট্রিক জানতে ও জানাতে পছন্দ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!