ফ্যাক্টরি রিসেট - Mobile Factory Reset

মোবাইল ফ্যাক্টরি রিসেট দেওয়ার আগে করণীয়।

নতুন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল কেনার পর দীর্ঘ দিন ব্যবহারের পরে মোবাইল স্লো হয়ে যাওয়া সহ নানান রকমের সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা গুলো সহজেই সমাধান দেওয়ার জন্য অনেকেই ফ্যাক্টরি রিসেট বা মোবাইল রিসেট করে থাকে। কিন্তু মোবাইল Factory Reset করতে গিয়ে অনেকেই কিছু ভুল করে থাকে যা রিসেট দেওয়ার পর অনুভব করে। তাই আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করবো আসলে ফ্যাক্টরি রিসেট কি? এবং Factory Reset করার আগে করণীয় জিনিস গুলো কি কি।

ফ্যাক্টরি রিসেট কি? (What is Factory Reset)

ফ্যাক্টরি রিসেট শব্দটা কে ভেঙ্গে দেখলে আমরা অনেকটা বুঝতে পারবো এটি আসলে কি। ফাক্টরি মানে তো কারখানা আমরা জানি আর রিসেট মানে পুনরায় বা নতুন করে শুরু করা। অর্থাৎ আপনার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলটি কেনার সময় ঠিক যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় ফিরিয়ে আনার একটি পদ্ধতি।  এর ফলে আপনার মোবাইলের সমস্ত কিছু মুছে যাবে, যেসব অ্যাপ ইনস্টল করা ছিল আনইনস্টল হয়ে যাবে, ফোন মেমোরিতে যেসব ছিল সম্পূর্ণ ডিলিট হয়ে যাবে এবং একদম ফ্রেশ হয়ে যাবে।

মোবাইল ফ্যাক্টরি রিসেট দেওয়ার আগে করণীয়

মোবাইল রিসেট দেওয়ার আগে আমাদের যে জিনিস গুলো করা উচিত সেটি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ

১। জিমেইল অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড

মোবাইল রিসেট দেওয়ার পর বেশির ভাগ ব্যক্তি যে সমস্যায় পড়ে তা হলো জিমেইল অ্যাকাউন্টে লগিন করা নিয়ে। কারণ যখন ফোন রিসেট দেওয়া হয় সব নতুন করে শুরু হয় আর এই ফোনটি আসলেই আপনার কি না সেটি যাচাইয়ের জন্য অনেক মোবাইলে জিমেইল অ্যাকাউন্টে লগিন করা বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে। তাই মোবাইল রিসেট দেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার যে মূল জিমেইলটি ফোনে লগিন আছে সেটার পাসওয়ার্ড মনে করে রাখুন যদি পাসওয়ার্ড মনে না থাকে অবশ্যই পাসওয়ার্ড রিসেট করে নিয়ে তারপর Factory Reset দিন।

২। কনটাক্ট নাম্বার ব্যাকআপ

অনেকেই ভুলে বা ইচ্ছা করে তাদের প্রয়োজনীয় কনটাক্ট নাম্বার গুলো সীমে না সেভ করে মোবাইলে সেভ করে রাখে। যার ফলে রিসেট দেওয়ার পর মোবাইল নাম্বার গুলো আর পাওয়া যায় না যদি না নাম্বার গুলো গুগলের সাথে Sync না করা থাকে। তাই রিসেট দেওয়ার আগে চেক করুন যেসব নাম্বার আপনি সেভ করে রাখছেন সব গুলো সীমে সেভ করা আছে কিনা। যদি মোবাইলে কোন নাম্বার সেভ থাকে তাহলে সেই গুলো সীম কার্ডে সেভ করে নিন। অথবা যেসব কনটাক্ট নাম্বার আছে সব ব্যাকআপ নিয়ে রাখুন রিসেট দেওয়ার আগে।

৩। ফোন মেমোরি ব্যাকআপ

সাধারণত আমরা ক্যামেরা দিয়ে যেসব ছবি তুলি ডিফল্ট ভাবে ঐ গুলো Internal Storage অর্থাৎ ফোন মেমোরি তে স্টোর হয়ে থাকে। এছাড়াও অ্যাপ ডাটা, ডাউনলোড দেওয়া ফাইল, ইডিট করা ফটো, রেকর্ড করা ভিডিও সব ফোন মেমোরিতে স্টোর থাকে ডিফল্ট ভাবে। অনেক সময় না জানার কারণে অনেকেই রিসেট দিয়ে থাকে এবং নিজের গুরুত্বপূর্ণ ছবি সহ অন্যান ফাইল হারিয়ে ফেলে। তাই মোবাইল রিসেট দেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ফোন মেমোরিতে যেসব ফাইল রয়েছে সব কম্পিউটার বা এক্সটার্নাল মেমোরি কার্ড কপি বা কাট করে রেখে দিন। অথবা গুগল ড্রাইভের সব চেয়ে প্রয়োজনীয় ফাইল গুলো স্টোর করে রাখতে পারেন।

৪। মোবাইল চার্জ

মোবাইল রিসেট দিতে বেশ ভালো সময় লেগে থাকে তাই খেয়াল রাখুন ফোনে যেন যথেষ্ট পরিমাণ চার্জ থাকে তাছাড়া রিসেট দিতে গিয়ে ফোন বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

৫। ইন্টারনেট কানেকশন

রিসেট দেওয়ার পর পর জিমেইল অ্যাকাউন্টে লগিন করার প্রয়োজন পড়বে এই জন্য আপনার মোবাইল ডাটা বা ওয়াইফাই থাকা অবশ্যই মোবাইল রিসেট দিন। ফোন রিসেট দেওয়ার সময় জিমেইল অ্যাকাউন্ট লগিন না করলে পরবর্তী ধাপে যেতে দেয় না তাই ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত রাখুন।

৬। প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যাকআপ

রিসেট করার ফলে যেহেতু সব অ্যাপ আন ইনস্টল হয়ে তাই আপনি ইতিমধ্যে যেসব অ্যাপও গেমস ইনস্টল করেছেন সেইগুলোও আন ইনস্টল হয়ে যাবে। তাই আপনার যেসব অ্যাপ প্রয়োজন এবং আপনি যদি মোবাইল ডাটা ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে অ্যাপ গুলো ডাউনলোড ছাড়া ইনস্টল করতে ব্যাকআপ নিয়ে নিন। রিসেট হয়ে গেলে পুনরায় ইনস্টল করতে পারেন আর আপনি যদি ওয়াইফাই ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে তো কথাই নিয়ে নতুন করে প্লেস্টোর থেকে ইনস্টল দিতে সমস্যা হওয়ার কথা না।

মোবাইল রিসেট দেওয়ার আগে এই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন তাহলেই চলবে। যেহেতু রিসেট দিলে সব কিছু মুছে যায় সেই হিসাবে আপনার কোন কোন জিনিস মুছে যেতে পারে সেই জিনিস গুলোর মধ্য আপনার গুরুত্বপূর্ণ জিনিস গুলো ব্যাকআপ নিয়ে রাখুন তাহলে হয়ে যাবে।

মোবাইল ফ্যাক্টরি রিসেট করার নিয়ম

  • প্রথমে আপনার মোবাইলের Settings এ প্রবেশ করুন।
  • About phone অথবা System অপশন নামে কিছু একটা ভাবেন সেটিতে প্রবেশ করুন।
  • তারপর দেখুন Back & Reset নামের অপশন আছে সেটিতে প্রবেশ করুন।
  • Erase all data (factory reset) নামের অপশন পাবেন সেটিতে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করলেই ফোন রিসেট হওয়া শুরু হবে।

মোবাইল কোম্পানি ভেদে Factory Reset অপশন আলাদা আলাদা নামে থাকতে পারেন। সহজ উপায় হলো সেটিং এ ঢুকার পর সার্চ করুন Factory Reset অথবা Backup & Restore অথবা, Reset তাহলে অপশনটি সহজেই পেয়ে যাবেন।

আশা করি, ফ্যাক্টরি রিসেট দেওয়ার আগে এই বিষয় গুলো মাথাই রাখলে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।

আরো পড়ুনঃ

যেভাবে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট শিশুদের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে!

৫টি কমন মোবাইল সমস্যা ও সমাধান টিপস।

মোবাইল স্লো সমস্যার সমাধান নিয়ে নিন।

ইনকগনিটো মোড কি? Incognito মোডের ব্যবহার।

প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও টিপস এন্ড ট্রিক জানতে ও জানাতে পছন্দ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!