Android Tips

মোবাইল স্লো সমস্যার সমাধান নিয়ে নিন।

আপনি কি মোবাইল স্লো সমস্যার সমাধান খুঁজচ্ছেন? তাহলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা মুহূর্তের জন্য স্মাফোনটি আমাদের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। যতই দামী বা ভালো মানে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল বা স্মার্টফোন হোক না কেন একটা সময় সেটি স্লো হয়ে যাবেই।

এটা স্বাভাবিক যে, যত দিন যাবে মোবাইল হোক বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক জিনিস সেটার কার্যক্ষমতা একটু একটু করে হ্রাস পাবেই। আমাদের ফোনটা একটা সময় পর এসে কেন স্লো হয়ে যায়? স্লো মোবাইল ফাস্ট করার উপায় কি? ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আজকের এই আর্টিকেল।

মোবাইল স্লো হওয়ার কারণ কি?

আমাদের স্বাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল বা স্মার্টফোনটি নতুন কেনার পর যেমন পারফোমেন্স একটা সময় পর সেটি আর দেয় না। কারণ হলো আমরা মোবাইলের সঠিকভাবে যত্ন নেয় না এবং যেহেতু মোবাইল ও ইলেকট্রনিক জিনিস তাই এটি স্বাভাবিক যে দিন দিন তার ক্ষমতা হ্রাস পাবে। মোবাইল বিভিন্ন ধরনের আজে বাজে অ্যাপ ব্যবহার করা সহ নানান কারণে মোবাইল স্লো হয়ে যায়।

মোবাইল স্লো সমস্যার সমাধান জেনে নিন

যাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল বা স্মার্টফোনটি স্লো হয়ে গেছে এবং তারপর খুঁজে বেড়াচ্ছেন মোবাইল স্লো হলে কি করব? তাদের জন্য নিচে কয়েকটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল স্লো হয়ে গেলে ফাস্ট করার উপায় ও টিপস এন্ড ট্রিক শেয়ার করা হলো।

১। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করাঃ মোবাইল স্লো হওয়ার অন্যতম কারণ গুলোর মধ্যে একটি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ফোনে ইনস্টল করে রাখা। অনেকেই আছে যারা বিভিন্ন অ্যাপ ইন্সটল করে মোবাইল ভরে রাখে যেগুলোর মাঝে খুব কম অ্যাপ তারা ব্যবহার করে থাকে। হয়তো মনে প্রশ্ন জাগছে অ্যাপ ইনস্টল থাকলে আবার ফোন স্লো হয় নাকি?

হ্যাঁ অ্যাপ ইনস্টল থাকলেও ফোন স্লো হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়। যখন আমরা কোন একটি অ্যাপ ইনস্টল করে তখন ফোন স্টোরেজ, র‍্যাম, প্রসেসর ইত্যাদির পাওয়ার ঐ অ্যাপেরও প্রয়োজন পড়ে। এইভাবে যখন যত অ্যাপ ইনস্টল দিবেন ততো স্টোর বা হার্ডওয়্যার রিসোর্স ব্যবহার করা শুরু করবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি। আর অ্যাপ গুলো যদি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে এমন হয়ে থাকে তাহলে তো কোথায় নেয়!

ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকলে আপনার অন্য কাজে বাধার সৃষ্টি করবে এটিই স্বাভাবিক। এছাড়াও অ্যাপ গুলোর জন্য নোটিফিকেশন দিয়ে ফোনটি স্লো করতে পারে। এক সাথে বিভিন্ন অ্যাপের নোটিফিকেশন বা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকলে আপনার ফোনটি স্লো করবেই এটি স্বাভাবিক। অতএব, আপনার ফোনে যেসব প্রয়োজনীয় অ্যাপ রয়েছে যেগুলো আপনি ব্যবহার করেন সেই গুলো আনইনস্টল করে দিবেন।

২। ফোন মেমোরী ফুলঃ মোবাইল স্লো সমস্যার সমাধান নিয়ে কথা বললে ফোন মেমোরী নিয়ে না বললেই নয়। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল বা স্মার্টফোন স্লো হওয়ার কারণ গুলোর মধ্যে ফোন মেমোরী ফুল করে রাখা একটি অন্যতম কারণ। আপনার খেয়াল করে থাকবেন যদি ফোন মেমোরি ফুল হয়ে যায় তাহলে আপনার নোটিফিকেশন প্যানেলে নোটিফিকেশন দিয়ে থাকে। আর তখন থেকেই আপনার মোবাইলের পারফোমেন্স তফাত দেখতে পারবেন।

যখন মোবাইলের মেমোরী ফুল হয়ে যায় তখন স্মার্টফোন স্লো হয়ে যায় কারণ হতে পারে মোবাইলে যে সব কাজ করে থাকি তার একটা টেম্পোরারি ফাইল তৈরী হয়। আর এই টেম্পোরারি ফাইল গুলো ডিফল্ট ভাবে ফোন মেমোরী তে সেভ হয়ে থাকে। যখন এই টেম্পোরারি ফাইল গুলো ফোনে মেমোরীতে সেভ বা তৈরী করতে পারে তখন হয়তো সমস্যা শুরু করে।

এই কারণে আপনার মোবাইল ফোনে যদি যথেষ্ট পরিমাণ ইন্টারন্যাল মেমোরি না থাকে তাহলে মেমোরিতে যেসব ফাইল রয়েছে সেই গুলো Cut করে এক্সটারন্যাল মেমোরিতে তে Paste করে রাখবেন। আপনার ফোন মেমোরী যতটা ফাঁকা রাখা সম্ভব রাখবেন এতে আপনার মোবাইল স্লো হওয়া থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করতে পারবেন।

৩। অপারেটিং সিস্টেম আপডেটঃ অনেক সময় আমরা যে অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করছি সেটির মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। অনেক সময় ফোন তৈরীর সময় অপারেটিং সিস্টেমে ত্রুটি থেকে যায় যেগুলো কোম্পানি পরে ঠিক করে এবং আপডেটের মাধ্যমে ইউজাদের কাছে পৌছে দিয়ে থাকে। তাই আপনার মোবাইল যদি স্লো হয়ে থাকে এবং অপারেটিং সিস্টেম আপডেট এসে থাকে তাহলে অবশ্যই ফোন আপডেট দিবেন।

৪। অ্যাপ আপডেট করাঃ অনেক সময় মোবাইলের সিস্টেম অ্যাপ বা প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপে সমস্যা থাকতে পারে যার কারণে মোবাইল স্লো হচ্ছে। কোন অ্যাপ বাগ বা ত্রুটি থাকলে সেই গুলো আপডেট অ্যাপে ফিক্স হতে পারে এই জন্য অ্যাপ গুলো আপডেট করে দেখতে পারেন।

৫। ফাক্টরি রিসেটঃ মোবাইল স্লো সমস্যার সমাধান করার অসাধারণ একটি উপায় হলো মোবাইল ফাক্টরি রিসেট দেওয়া। মোবাইল নেওয়ার পর দীর্ঘ দিন ব্যবহার করার ফলে অনেকেই অনেক ধরনের অ্যাপ ইনস্টল করে উল্টা পাল্টা সেটিংস করে থাকে যার কারণে সমস্যা থাকতে পারে। ফাক্টরি রিসেট করার ফলে আপনার স্মার্টফোনটি একদম নতুন যখন কিনেছেন ঠিক সেই অবস্থায় সব রিসেট হয়ে যাবে এবং আগের চেয়ে অনেকটা ফাস্ট হবে।

কিন্তু আপনি যদি আবার অসতর্কতার সাথে মোবাইলটি ব্যবহার করেন কিছু দিনের মধ্যে তাহলে ঐ আগের অবস্থায় হয়ে যাবে। তাই মোবাইল রিস্টোর করার পর আজে বাজে অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন ফোনে মেমোরি ক্লিন রাখুন। অবশ্যই ফোন ফাক্টরি রিসেট দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ডাটা এক্সটারন্যাল মেমোরী কার্ডে কপি করা রাখবেন।

৬। লাইভ ওয়ালপেপারঃ যদি কোন লাইভ ওয়ালপেপার সেট করা থাকে তাহলে সেটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। লাইভ ওয়ালপেপার ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকলে তার জন্য র‍্যাম ও প্রসেসরের ইউজ হবে সেই জন্য লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার না করায় ভালো।

৮। ব্যাটারি লাইফঃ মোবাইলের ব্যাটারি হেলথ কমে গেলে বা চার্জ কম থাকলেও আসল পারফোমেন্স দিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। কারণ আমাদের মোবাইল গুলো ব্যাটারি থেকেই পাওয়ার পেয়ে থাকে আর এটির সরবারহ সঠিকভাবে না হলে পারফোমেন্স ঠিকভাবে নাও দিতে পারে। তাই আপনার ফোনের ব্যাটারি যদি খারাপ হয়ে থাকে তাহলে নতুন ব্যাটারি সেট করুন।

৯। অতিরিক্ত নোটিফিকেশনঃ যেসব অ্যাপ থেকে অতিরিক্ত নোটিফিকেশন পাঠায় সেই অ্যাপ গুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। অথবা যেসব অ্যাপ অতিরিক্ত নোটিফিকেশন সেন্ড করে সেই গুলোর নোটিফিকেশন অফ করে রাখা। যেমন ফেসবুক, মেসেঞ্জার ইত্যাদি অ্যাপ থেকে প্রচুর পরিমাণে নোটিফিকেশন দেয় যে গুলো ফোন স্লো করতে পারে। অনেক সময় দেখবেন ডাটা কানেকশন দেওয়ার সাথে সব নোটিফিকেশন এক সাথে এসে মোবাইল স্লো করে দিতে লাগে তাই নোটিফিকেশন অফ রাখুন।

১০। অ্যানিমেশন অফ করুনঃ আপনার মোবাইলে যদি বিভিন্ন কাজ করার ক্ষেত্রে অ্যানিমেশন দিয়ে থাকে তাহলে সেই অ্যানিমেশন ইফেক্ট গুলো বন্ধ করুন। Developer Option থেকে অ্যানিমেশন স্কেল 0.5x করে রাখতে পারেন ফলে পারফোমেন্সে অনেকটা তফাত লক্ষ্য করতে পারেবন। এটি কিভাবে করতে হয় কষ্ট করে গুগল সার্চ করে নিন।

উপরের টিপস এন্ড ট্রিক গুলো ফলো করলে আশা করি, মোবাইল স্লো সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন।আপনার পছন্দের মোবাইল ফোনটি দ্রুত গতির রাখতে অবশ্যই টিপস গুলো ভালোভাবে ফলো করুন।

Feature Image: Photo by Denny Müller on Unsplash

Techmaster BD

প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও টিপস এন্ড ট্রিক জানতে ও জানাতে পছন্দ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!