boy playing at laptop inside room

যেভাবে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট শিশুদের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে!

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি যুগে অভিভাবকরা নিজেদের অজানতেই শিশুদের স্মার্ট ও ইন্টারনেট ধরিয়ে দিয়ে এক ক্ষতিকর অবস্থায় সৃষ্টি করে ফেলছে। প্রায়ই দেখা যায়, শিশুদের কে শান্ত রাখার জন্য মোবাইলে কার্টুন ভিডিও, গান, গেম ইত্যাদি চালিয়ে হাতে ধরে দেওয়া হয়। এটা শুধু আমার আপনার ঘরের কাহিনী না বিশ্বের প্রায়ই জায়গা গুলোতে এই কাজটি করতে দেখা যায়। হ্যাঁ আমার বা আপনার উদ্দেশ্য নয় যে শিশুদের আসক্ত করার কিন্তু এর মধ্যে তাদের এই জিনিস গুলোর আগ্রহ ও আসক্তি তৈরী হয়ে যায়। তাই বলে কি আমরা শিশুদের কে ফোন দিবো না? আমরা তো শুধু গান, গেমস, ভিডিও দেখায় না পড়াশোনা করতেও ব্যবহার করতে দেয়।

অবশ্যই আমরা স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট বা অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুদের শিক্ষা বিনোদন দুটাই দিবো। কিন্তু এর মধ্যে আমরা যারা অভিভাবক তাদের কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যেহেতু ১৮ বছরের নিচে সবাই কে শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাদেরকে সবাইকে উদ্দেশ্য করে আর্টিকেলটি লেখা হলেও যারা বেশি ছোট ১-১০ বছরের মধ্যে যারা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশি। আপনার সন্তান বা ভাই বোনের বয়স যদি এর মধ্য হয় তাহলে আর্টিকেলটি ভালো করে পড়ুন আশা করি উপকার হবে।

যেভাবে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট শিশুদের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে!

স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার করার সময় শিশুদের প্রতি যেভাবে খারাপ প্রভাক ফেলতে পারে সেই সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। সেই সাথে শিশুদের স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত সেই বিষয়ে টিপস এন্ড ট্রিক প্রদান করা হলো।

ক্ষতিরকর প্রভাবঃ শুরুতে শিশুদের কান্না থামানো জন্য হাতে স্মার্টফোন ধরিয়ে দিয়ে কোন গেমস বা ভিডিও দেখানো হলেও এটি এক সময় গিয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। আপনার সন্তান কান্না করলো আর আপনি তার জেদ আটকানোর জন্য তাকে মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিলেন এবং সে খুব আগ্রহ নিয়ে দেখছে আর কথা মতো খাওয়া দাওয়া করছে। এইভাবে যখন এক দুই দিন করে স্মার্ট ফোন ধরিয়ে খাওয়ানোর পর দেখবেন শিশুটি আর ফোন ছাড়া কোন খাবার গ্রহণ করছে না। খাওয়ানোর জন্য হয় মোবাইলে ভিডিও দেখতে বা গেমস খেলতে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কারণ মোবাইল ধরে খাওয়া তার অভ্যাসে পরিণিত হয়েছে যার জন্য দায়ী আমি আপনি নিজেই। তাই আপনার সন্তান কান্না করলেই স্মার্টফোন দেওয়া লাগবে তার কোন মানে নাই আপনি যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করুন ফোন ছাড়া সব কিছু করার।

একবার শিশুর এই বদ অভ্যাস তৈরী হয়ে গেলে পরে ছাড়ানো মুশকিল হয়ে পড়বে। আমরা জানি যে, মোবাইল বা যেকোন ডিভাসের স্ক্রিন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়ে থাকে যা শিশুর বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। স্ক্রিনের এই আলোর বিকিরণ শিশুর চোখের রোগের সৃষ্টি করতে পারে তাই যথা সম্ভব চেষ্টা করুন শিশু কে স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখার।

বর্তমানে অনলাইন ক্লাস করা ও বিনোদন পাওয়ার জন্য অনেকটা সময় স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সাথে পার করে শিশুরা। ইন্টারনেটে যেমন শিক্ষণীয় অনেক কনটেন্ট আছে ঠিক তেমনি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্টও আছে। অভিভাবকের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় শিশুদের সামনে এডাল্ট কনটেন্ট চলে আসছে যা শিশুদের বিকাশের উপর অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুরা বিনোদন ও শিক্ষণীয় কনটেন্ট গুলো দেখার সময় এমন অনেক কনটেন্ট আছে যা দেখে ফেলতে পারে কিন্তু তার দেখা উচিত না। এছাড়াও আরো অনেক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে তাদের পড়ালেখার প্রতি অনীহাও সৃষ্টি হতে পারে। মোবাইল চালানোর জন্য তারা স্কুল যাওয়া বন্ধ করতে পারে তাই যথা সম্ভব মোবাইল থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।

শিশুদের স্মার্ট ও ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবকদের জন্য কিছু টিপস

১। অল্প বয়সে শিশুকে মোবাইল ফোন কিনে দিবেন না এতে তার পড়ালেখার ক্ষতি হতে পারে। অনলাইন ক্লাস বা কোন কিছু করার প্রয়োজন হলে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে করতে দিন।

২। যেকোন কিছুতেই শিশুদের মোবাইলে ফোন দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করবেন না এতে তাদের বদ অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

৩। আপনার সন্তান কে যদি মোবাইল ফোন দিয়ে থাকেন তাহলে তাদের ফোনটি সব সময় নজের রাখুন আপনার কন্ট্রোলে রাখুন। এই জন্য গুগল প্লেস্টোরে অনেক অ্যাপ রয়েছে সেই সাথে অ্যান্ড্রয়েড এর ভেতর ও parental control সিস্টেমটি রয়েছে। এটি দ্বারা আপনার সন্তানের স্মার্টফোন অনেকটা কন্ট্রোল করতে পারবেন।

৪। ছোট বাচ্চাদের সাথে নিয়ে কোন এমন কোন ধরনের ভিডিও দেখবেন না যা আপনার সন্তান কে বড় হয়ে খারাপ কনটেন্ট দেখতে উৎসাহিত করে। যেমন টিকটক এমন একটি অ্যাপ যাতে অশ্লীলতার কোন লিমিট নেয় আর অনেক মা বাবাদের দেখা যায় এই সামাজিক ব্যাধী মার্কা অ্যাপটা নিজেরা তো ব্যবহার করে সেই সাথে সন্তাদের নিয়েও দেখে আবার তাদের কে একাও দেখতে দেয়। টিকটকে কি ধরনের ভিডিও কনটেন্ট পাওয়া সেটা মনে হয় না আপনাদের খুলে বলতে হবে তাই এই সব কনটেন্ট থেকে আপনার সন্তান বা শিশুদে দূরে রাখুন।

৫। যেসব ওয়েবসাইট ক্ষতিকর ও এডাল্ট ওয়েবসাইট সেইগুলো ব্লক করে রাখুন। এতে ভুল করেও ঐসব সাইটে আপনার সন্তানেরা প্রবেশ করতে পারবে না এবং নিরাপদ থাকবে।

৬। বর্তমানে শিশুদের কে তাদের জন্য অনুপযোগী কনটেন্ট থেকে দূরে রাখার জন্য আলাদাভাবে শিশুদের জন্য অ্যাপ ও ওয়েবসাইট তৈরী করে থাকে। যেমন ফেসবুক মেসেঞ্জারের জন্য মেসেঞ্জার কিড নামের অ্যাপ রয়েছে, ইউটিউবের জন্য কিড ভার্সন রয়েছে। এই রকম সকল সোশ্যাল মিডিয়া ও বিনোদনের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মালিকেরা শিশুদের নিরাপত্তা ও বিকাশ নিয়ে চিন্তা করে এমন আলাদা ভার্শন রেখেছে। যাতে শিশুদের কাছে সব ধরনের কনটেন্ট না গিয়ে শিশুদের জন্য উপযোগী সেই সব কনটেন্ট গুলো তাদের কাছে যাবে। তাই আপনার শিশুকে ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি ব্যবহার করতে দিলে তার কিড(Kid) ভার্শন ইনস্টল করে সেটি ব্যবহার করতে দিন। এতে তাদের কাছে খারাপ কনটেন্ট গুলো যাওয়ার চ্যান্স খুবই কম।

৭। আপনার সন্তানকে ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দিয়ে দূরে চলে যাবেন না বরং কাছে থেকে তার উপর নজর রাখার চেষ্টা করুন যাতে কোন খারাপ কিছু না দেখে ফেলে।

৮। অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে ইন্টারনেটে বন্ধুত্ব তৈরী করার দিকটা খেয়াল রাখবেন। মাঝে মাঝে মোবাইল নিয়ে চেক করবেন কোন বিপদে জড়িয়ে পড়ছে না তো।

৯। সারাদিন মোবাইল শিশুদের কে না দিয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দিন তারপর আর একবার না দেওয়ার অভ্যাস করুন।

১০। শিশুকে নিয়ে ভালো ও শিক্ষণীয় ভিডিও দেখুন এতে তাদের ঐসব শিক্ষণীয় বিষয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে এবং বড় হয়ে এইগুলো প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

উপরে আমি ছোট করে আপনাদের কে জানানোর চেষ্টা করলাম শিশুদের কে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দিয়ে আমরা বিপদে ফেলতে পারি। তাই স্মার্ট ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

অন্যান্য আর্টিকেলঃ

১০টি ইন্টারনেট নিরাপত্তা টিপস এন্ড ট্রিক।

ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ কম্পিউটার? কোনটি কিনবেন?

৫টি কমন মোবাইল সমস্যা ও সমাধান টিপস।

ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় নিরাপদ থাকার উপায়।

Share

প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও টিপস এন্ড ট্রিক জানতে ও জানাতে পছন্দ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!